২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
খেলাধুলা ব্রেকিং

গুরু গম্ভীরের অগ্নিপরীক্ষা

গুরু গম্ভীরের অগ্নিপরীক্ষা

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়: বৃত্তটা কি সম্পূর্ণ হবে? নাকি বৃত্তটা শেষই হয়ে যাবে?

প্রশ্নটা উঠেছে। ঘুরছেও প্রবলভাবে। কিন্তু তিনি ঠিক কী ভাবছেন, তাঁর মনের অন্দরের দোলাচলটা ঠিক কোন পর্যায়ে, এখনও অজানা দুনিয়ার।

আদতে বোঝার উপায়ও নেই। কারণ, তিনি গৌতম গম্ভীর সচরাচর হাসেন না। গৌতমের মুখ সবসময় গম্ভীর। ক্রিকেট জীবন পার করে কোচিং, গুরু গম্ভীরের ইউএসপিই হল, হাসব না। মনের অন্দরের জানালা খুলে দেব না। যেন তিনি রাম গরুড়ের ছানা। সদাই যাদের হাসতে মানা!

২০২৪ সাল। আইপিএলের আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর হিসেবে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন গম্ভীর। সেই বছরই তিন নম্বর আইপিএল ট্রফি জিতে নেয় কেকেআর। আর আইপিএল খেতাব জয়ের পরই কেকেআর ছেড়ে গম্ভীর ঢুকে পড়েন ভারতীয় দলের সাজঘরে। হয়ে যান টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ। সেই দায়িত্বে তিনি এখনও রয়েছেন। কিন্তু আর কতদিন? প্রাথমিকভাবে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সঙ্গে গম্ভীরের চুক্তি হয়েছিল ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে একদিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। মাস খানেক আগে সেই চুক্তি বেড়ে হয়েছে ২০২৮ পর্যন্ত। কিন্তু গম্ভীর কি ততদিন পর্যন্ত থাকতে পারবেন ভারতীয় ক্রিকেট সংসারে?

ইতিমধ্যেই দলের ‘সিনিয়র ক্রিকেটার হঠাও’ অভিযানে নাম লিখিয়ে চূড়ান্ত বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন তিনি। গুরু গম্ভীরের ডানা ছাঁটাও শুরু হয়ে গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট সংসারে। শুধু তাই নয়, শেষ দুই বছরে ঘরের মাঠে প্রথমে নিউজিল্যান্ড ও পরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হতে চলেছে ভারতীয় দলকে। যা সাম্প্রতিক অতীতে কখনও হয়নি। লাল বলের ক্রিকেটে তিনি দলকে সাফল্যের দিশা দিতে এখনও পর্যন্ত ব্যর্থ। সাদা বলের ক্রিকেটেও যে দারুণ সফল, এমন কথা বলা যাবে কি? জবাবে চলবে তুলকালাম বিতর্ক। কারণ, গম্ভীরের কোচিংয়ে এই তো কয়েক মাস আগে টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফি জয়ের নজিরও তো রয়েছে গুরু গম্ভীরের।

কিন্তু তারপরও কোচ হিসেবে গম্ভীরের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। তাঁর ম্যান ম্যানেজমেন্ট স্কিল নিয়েও রয়েছে চর্চা। দল নির্বাচনে ক্রিকেটার বাছাইয়ের ব্যাপারেও গম্ভীরের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ রয়েছে। মেন্টরের ভূমিকায় শুধুমাত্র আইপিএল জয়ের পুরষ্কার হিসেবে তিনি ভারতীয় দলের হেড স্যার হয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরে কান পাতলে গম্ভীরের টিম ইন্ডিয়ার কোচ হওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক অঙ্কের কথাও শোনা যায়। ২০২৪ সালে টিম ইন্ডিয়ার কোচ হওয়ার পর গম্ভীরের প্রথম সফর ছিল শ্রীলঙ্কায়। দুই বছর পর কোচ হিসেবে ফের শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। মাঝের সময়ে শুধু প্রেক্ষাপটটা বদলে গিয়েছে।

দুই বছর আগে গম্ভীর যখন কোচ হিসেবে রাবণের দেশে গিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন ভারতীয় দলের শেষ কথা। এখন আর এমনটা বলা যাবে না। গম্ভীরের সিংহাসন টলমল করছে। রাবণের দেশে লঙ্কাকাণ্ড ঘটাতে পারলে ভালো, না হলে দুই টেস্টের সিরিজের পরই গম্ভীরের কোচিং কেরিয়ারে দাঁড়ি পড়ে যেতে পারে। তাঁর একাধিক সাপোর্ট স্টাফ ছাঁটাইয়ের পাশে রোহিত শর্মার একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর জল্পনায় বিসিসিআইয়ের রক্তচক্ষুর সামনে পড়েছেন গুরু গম্ভীর। তাছাড়া দলের ক্রিকেটারদের কাছেও কোচ গম্ভীরের প্রতি আস্থা, সমর্থন ও বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে বলে খবর। এমন অবস্থায় গলে ১৫ অগাস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট। তার আগে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ছয় উইকেটে জয় পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। কলম্বোর এনসিসি ক্রিকেট মাঠে ভারতীয় দলের অনুশীলনের সময় কোচ গম্ভীরকে অতীতের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় দেখিয়েছে। অধিনায়ক শুভমান গিল থেকে শুরু করে রবীন্দ্র জাদেজা, ঋষভ পন্থদের মতো সিনিয়রদের সঙ্গে কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে সখ্যতা তৈরির মরিয়া চেষ্টা করে চলেছেন গম্ভীর। কিন্তু সেই চেষ্টা কি সফল হবে? কারণ, ব্যাট হাতে কোচ গম্ভীর তো মাঠে নামতে পারবেন না। নামতে হবে শুভমানদেরই। লড়াইটা ভারতীয় ক্রিকেটারদেরই করতে হবে।

গুরু গম্ভীর শুধু সাজঘরে সাফল্যের মন্ত্র দেবেন। নিজের সিংহাসন বাঁচাতে গেলে নিজেকে নতুনভাবে ভাঙাগড়ার খেলায় নামতে হবে টিম ইন্ডিয়ার কোচকে। দুই বছরের আন্তর্জাতিক কোচিং কেরিয়ারে এই প্রথম এমন অগ্নিপরীক্ষার সামনে গুরু গম্ভীর, যেখানে সাফল্য ছাড়া পথ নেই। দ্বীপরাষ্ট্রে সিরিজ হার মানে গম্ভীরের চাকরি নিয়েই টানাটানি তো হবেই। সঙ্গে শুভমানদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপের ফাইনালের পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

অগ্নিপরীক্ষায় কি সফল হতে পারবেন গুরু গম্ভীর? সফল হলে হয়তো এবার তিনি হাসবেনও।


শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp