২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
রাজ্য ব্রেকিং

পুজো মানেই ধূপকাঠি, কিন্তু কলকাতার কোথায় এই ধূপকাঠি গলি

পুজো মানেই ধূপকাঠি, কিন্তু কলকাতার কোথায় এই ধূপকাঠি গলি

ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বলে, তারপর ধূপ। শঙ্খধ্বনির সঙ্গে ওই গন্ধটাই পুজোর সবচেয়ে চেনা স্মৃতি। কিন্তু শহরের লক্ষ লক্ষ প্যাকেট ধূপকাঠি আসে কোথা থেকে?

উত্তরটা উত্তর কলকাতায় — বড়বাজারের রাজা কাটরা চত্বর। ওই এলাকার একটি গলিপথকেই কারবারি মহলে ডাকা হয় ‘ধূপকাঠি গলি’ নামে। পুরসভার ফলকে ওই নাম লেখা নেই, কিন্তু বড়বাজারে জিজ্ঞেস করলে লোকে ঠিক দেখিয়ে দেয়।

‘কাটরা’ মানে কী

বড়বাজার বুঝতে গেলে আগে ‘কাটরা’ শব্দটা বুঝতে হয়। কাটরা হল উঠোন-ঘেরা পুরনো ধাঁচের পাইকারি বাজার — চারপাশে সারি সারি গুদাম আর দোকান, মাঝখানে খোলা চত্বর যেখানে মাল ওঠানামা করে। রাজা কাটরা তেমনই একটি, শহরের বড় পাইকারি কেন্দ্রগুলির অন্যতম। ভোজ্য তেল, ডাল থেকে শুরু করে নানা পণ্যের কারবার চলে সেখানে; তারই একটি অংশ ধূপ-আগরবাতির।

বড়বাজার নিজেই এক বিরাট ব্যাপার। অষ্টাদশ শতকে সুতানুটির হাটের জায়গা নেয় ‘বাজার কলকাতা’। আজ সেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ৫০ হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী কারবার করেন। গলির পর গলি, প্রতিটির আলাদা চরিত্র — কোথাও কাপড়, কোথাও বাসন, কোথাও সোনা, কোথাও মশলা। ধূপকাঠির গলিও সেই ছকেই তৈরি।

গলিতে কী মেলে

সেখানে খুচরো ক্রেতার চেয়ে বেশি আসেন পাইকারি খদ্দের — পাড়ার মুদি, পুজোর সরঞ্জামের দোকানদার, মন্দিরের লোক, আর পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা। কাগজের বাক্সে থরে থরে সাজানো নানা সুবাসের কাঠি — চন্দন, গোলাপ, মোগরা, লোবান, গুগ্গুল। পাশাপাশি ধুনো, ধুনুচি, কর্পূর, প্রদীপের সলতে, সিঁদুর — পুজোর গোটা সরঞ্জামই এক ছাদের তলায়।

পুজোর মাসখানেক আগে থেকেই ছবিটা বদলে যায়। ভোর থেকে মাল ওঠানামা, ঠেলাগাড়ির ভিড়, দরদামের হট্টগোল। শহরের বাইরে জেলার খুচরো বিক্রেতারাও এই সময়েই এসে বছরের বড় বরাতটা তুলে নিয়ে যান।

এক নজরে

  • কোথায়: রাজা কাটরা চত্বর, বড়বাজার, উত্তর কলকাতা
  • কীভাবে: নিকটতম মেট্রো মহাত্মা গান্ধী রোড; হাওড়া থেকে ব্রিজ পেরিয়ে সরাসরি
  • কারা আসেন: মূলত পাইকারি ক্রেতা — দোকানদার, মন্দির, পুজো কমিটি
  • কী মেলে: ধূপকাঠি, ধুনো, ধুনুচি, কর্পূর, প্রদীপ-সলতে, পুজোর সরঞ্জাম
  • ব্যস্ততম সময়: মহালয়ার আগের তিন-চার সপ্তাহ
  • বড়বাজারে ব্যবসায়ী: ৫০ হাজারেরও বেশি

শিল্পটা কত বড়

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ধূপ-আগরবাতি উৎপাদক ও রফতানিকারক। বাজার গবেষণা সংস্থা আইএমএআরসি-র হিসেব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের ধূপকাঠি ও ধূপের বাজার প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার; খুচরো বাজারের হিসেবে সংখ্যাটি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। ২০৩৪ সাল নাগাদ তা ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে বলে ওই সংস্থার অনুমান।

এই শিল্পে দেশজুড়ে কাজ করেন আনুমানিক ৫ লক্ষ মানুষ, যাঁদের প্রায় ৩ লক্ষই কর্নাটকে। দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই আসে ওই এক রাজ্য থেকে। অর্থাৎ বড়বাজারের গলিতে যে কাঠি বিক্রি হচ্ছে, তার একটা বড় অংশের যাত্রা শুরু দক্ষিণ ভারতে — বাঁশের সরু কাঠি, সুগন্ধি মশলা আর আঠার মিশেলে।

উল্লেখযোগ্য, এই শিল্পে কাজ করা মানুষের বড় অংশই মহিলা, এবং কাজটা মূলত ঘরে বসে হাতে করা। যন্ত্রে তৈরি কাঠির চল বাড়লেও হাতে গড়া কাঠির বাজার এখনও রয়েছে।

যাবেন কীভাবে

মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশন থেকে হাঁটা পথ। হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়া ব্রিজ পেরোলেই বড়বাজার চত্বর। তবে মনে রাখবেন, এটি মূলত পাইকারি বাজার — রবিবার অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকে, আর সকালের দিকেই কারবার সবচেয়ে জমজমাট। গলিগুলি সরু, পুজোর সময় ভিড় প্রবল; গাড়ি নিয়ে ঢোকার চেষ্টা না করাই ভাল।

দ্রষ্টব্য: ‘ধূপকাঠি গলি’ স্থানীয় ভাবে প্রচলিত নাম; এটি কোনও সরকারি রাস্তার নাম নয়। শিল্প সংক্রান্ত সংখ্যাগুলি বাজার গবেষণা সংস্থার প্রকাশিত অনুমান, সরকারি পরিসংখ্যান নয়।

ট্যাগ: #ধূপকাঠিগলি #বড়বাজার #রাজাকাটরা #কলকাতা #আগরবাতি #দুর্গাপুজো২০২৬ #পুজোরবাজার #প্রথমসন্দেশ

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp