২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
সাম্প্রতিক ঘটনা ব্রেকিং

'কলরব' নয়, দ্বন্দ্বে আগুন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

'কলরব' নয়, দ্বন্দ্বে আগুন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

বুধবার রাতের ধুন্ধুমারের রেশ কাটল না বৃহস্পতিবারেও। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দিনভর চড়া উত্তেজনা, শুরু হয়ে গিয়েছে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও জমায়েত। বাম ছাত্র সংগঠন ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) — দু’পক্ষই ক্যাম্পাসে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ও দিকে ঘটনাটিকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারাধীন একটি মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কী নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত

গোলমালের কেন্দ্রে ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (ফেটসু)-এর ডাকা একটি জেনারেল বডি (জিবি) বৈঠক। বুধবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের অরবিন্দ ভবনে ওই বৈঠক শুরু হয়। ইউনিয়নের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য সিগনেটরি ঠিক করা-সহ কয়েকটি সাংগঠনিক বিষয় আলোচনার কথা ছিল বলে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি।

এবিভিপির পাল্টা বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে কোনও নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই, ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও নির্দেশিকাও জারি হয়নি। তাই এই ধরনের জিবি বৈঠক ডাকার এক্তিয়ারই নেই। সেই আপত্তি ঘিরেই বচসা, তারপর হাতাহাতি। রাত বাড়তেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অরবিন্দ ভবনের বাইরে পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ক্যাম্পাসে, আহত একাধিক

সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, সহ-উপাচার্যের অনুরোধেই রাতে ক্যাম্পাসে ঢোকে পুলিশ এবং অরবিন্দ ভবন থেকে ৫০-৬০ জনকে সরিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে মোতায়েন করা হয় বাহিনী। দু’পক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে দাবি। এবিভিপির বক্তব্য, তাদের অন্তত চার জন আহত হয়েছেন, যাঁদের যাদবপুরের কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দু’পক্ষের দাবিতে ফারাক রয়েছে।

রাতেই যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান এবিভিপি সমর্থকেরা। মধ্যরাতে থানায় পৌঁছন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। পরে তিনি হাসপাতালেও যান আহতদের দেখতে। দু’পক্ষই যাদবপুর থানায় পাল্টাপাল্টি এফআইআর দায়ের করেছে। একটি অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নিপীড়ন প্রতিরোধ) আইনের ধারা প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

এক নজরে

  • কোথায়: অরবিন্দ ভবন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
  • কখন: ১৯ অগস্ট সন্ধ্যা থেকে ২০ অগস্ট ভোররাত
  • কী নিয়ে: ফেটসুর ডাকা জিবি বৈঠক
  • কারা: বাম ছাত্র সংগঠন (এসএফআই, ডিএসএফ, ডিএসও) বনাম এবিভিপি
  • আহত: দু’পক্ষেই একাধিক; এবিভিপির দাবি অন্তত ৪
  • পুলিশ: দু’পক্ষের এফআইআর, গ্রেফতার নেই
  • আজ: ক্যাম্পাসে দু’পক্ষেরই মিছিল ও জমায়েত

চাপান-উতোর রাজনৈতিক মহলে

এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারীর অভিযোগ, শুধু এসএফআই নয়, অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়েছেন।

পাল্টা এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের দাবি —

“আমি যা শুনেছি, এবিভিপির কর্মীরা স্থানীয় বিজেপি ঘনিষ্ঠদের সাহায্য নিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে ভাঙচুর চালিয়েছে।”
— সৃজন ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক, এসএফআই

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতেই তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন — নির্বাচন ঘোষণা হোক, এবিভিপি গণতান্ত্রিক ভাবে জিতে দেখাক। অন্য দিকে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন কোনও ছাত্র সংসদই নেই, তখন জিবি বৈঠক ডাকা হল কী ভাবে। ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ, দ্রুত শুনানির আর্জি

এরই মধ্যে বিষয়টি গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। আবেদনকারীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বুধবার রাতের ঘটনাকে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলমালের পরে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে দীর্ঘদিন ধরেই বিচারাধীন। ওই মামলাতেই আদালত আগে নির্দেশ দিয়েছিল, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো যাবে না। পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, সিসিটিভি ও আলোর ব্যবস্থা নিয়েও একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ফের একই ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনায় সেই নির্দেশগুলি কতটা কার্যকর হয়েছে, সেই প্রশ্নই নতুন করে উঠছে।গতকাল গভীর রাতে অরবিন্দ ভবনে একজন সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন। তিনি ভবনে ঢোকার গেটে অতি তৎপরতার সঙ্গে তালা না দিলে আগুন গেটের বাইরে নয়, হয়তো সমগ্র ভবন জতুগৃহে পরিণত হত।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। আহতের সংখ্যা, ঘটনার ক্রম ও দায় নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্যে ফারাক রয়েছে; দু’পক্ষের দাবিই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের পরে তথ্য বদলাতে পারে। নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।

#যাদবপুরবিশ্ববিদ্যালয়#এবিভিপি#এসএফআই#ফেটসু#কলকাতাহাইকোর্ট#ছাত্ররাজনীতি#পশ্চিমবঙ্গ

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp