রিতা রায়, কলকাতা: কলকাতা শহর এবং জেলায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে প্রায়। বিভিন্ন জেলায় বর্ষার দাপটে মানুষ বিপর্যস্ত, তবু মা আসবেন এই আনন্দের মনের কোণে উঁকি দেয়। ফুলফর্মে বাজার-দোকান শুরু না হলেও কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে ভিড় চোখে পড়ছে।
কয়েক মাস আগে গড়িয়াহাট থেকে হাতিবাগান বেশ বেসুরো লেগেছে সাধারণ মানুষের কাছে। হকার উচ্ছেদ শুরু হওয়া তার কারণ। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পালাবদলের পর একের পর এক নিয়ম, নীতি চালু করেছে রাজ্য সরকার। হয়তো ভালোর জন্য। কিন্তু হঠাৎ হাতিবাগান, শ্যামবাজার, মানিকতলা, গড়িয়াহাট ইত্যাদি ফুটপাতের জামাকাপড়সহ অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবসা তো বহু পুরোনো। হ্যাঁ। পথ চলতি মানুষের অসুবিধা হয়।
এইরকম অসুবিধা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নোটবন্দি থেকে শুরু করে আজ এই লিংক, কাল ওই লিংক, পরশু সেই লিংক এসবেও অসুবিধা শুধু নয় মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। পুনর্বাসন দিয়ে হকার ওঠানো কি খুব অনুচিত কাজ? যুগের পর যুগ, বংশ-পরম্পরায় ব্যবসা করেছে কলকাতা শহরে। হুট করে সব ভেঙেচুরে একাকার।
কোনো বাজারে মা তার শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে কিছু খাবার বিক্রি করেন, যাঁরা কেনাকাটা করতে আসেন কম পয়সায় ওই খাবার পকেট-ফ্রেন্ডলি। তাকেও চুলের মুঠি ধরে উঠিয়ে দিয়েছে মহিলা পুলিশ।
দিন কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় ব্যবসায়িক মন্দা ও হকারদের জীবিকার সংকটের কথা মাথায় রেখে আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য পুজোর বাজারে বাধা থাকছে না।
উৎসবের মরসুমে ব্যবসা স্বাভাবিক গতিতেই চলবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।