মায়া চট্টোপাধ্যায়: বাংলা সিনেমা বাঙালির অতি প্রিয় বিনোদন। আর সেই সিনেমায় যদি ‘খেলা’ বিশেষ চরিত্রের রূপ নেয় একেবারে সোনায় সোহাগা। খেলাকে কেন্দ্র করে সত্তরের দশকের আগে থেকেই নির্মিত হয়েছে কালজয়ী সিনেমা। ইংরেজি করলে স্পোর্টস ড্রামা বললেও বলা যায়।
বাংলা চলচ্চিত্রে বাঙালির সংস্কৃতি, জাতীয়তাবাদ, সামাজিক সংগ্রাম এবং ব্যক্তিগত আবেগের চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে একটার পর একটা সিনেমায়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও বাঙালির আত্মমর্যাদার লড়াইকে ফুটিয়ে তোলার জন্য ফুটবলকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সেলুলয়েডে। কয়েকটি উদাহরণ দিলে পাঠকদের বুঝতে হয়তো সুবিধা হবে। যেমন: এগারো, দ্যা ইলেভেন ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক আই.এফ.এ শিল্ড জয় ও মোহনবাগানের ব্রিটিশ বধের গল্পে আধারিত সিনেমা অরুণ রায় পরিচালিত এই ছবি। ধ্রুব ব্যানার্জী পরিচালিত ‘গোলন্দাজ’ ছায়াছবি ভারতীয় ফুটবলের জনক নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর জীবন আধারিত। আবার অন্যদিকে খিজির হায়াত খানের ‘জাগো’ এবং রায়হান রাফির ‘দামাল’ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অবদান ও আত্মত্যাগের গল্প ফুটিয়ে তুলে সিনেমার অর্কাইভে ছাপ রেখে গেছে।
এছাড়া ব্যক্তিগত সংগ্রাম বা গ্রাম বাংলার পটভুমিতে তৈরী হয়েছে একাধিক ছবি। বিজয় বসু পরিচালিত ‘সাহেব’ ছবি সত্তরের দশকে বাংলা সিনেমায় আলোড়ন ফেলেছিল। আটপৌরে বাঙালি গেরস্ত জীবনের সঙ্গে ফুটবল-এর কিছু অংশ গল্পে স্থাপন করে সংবেদনশীল বাংলার পরিচয় বহণ করেছে এই ছায়াছবি।
বিখ্যাত সিনেমা ‘কোনি’। মতি নন্দীর গল্প ও তরুণ মজুমদারের পরিচালনায় বাংলা ক্রীড়া চলচ্চিত্রের এক মাইলফলক। সাঁতারের ট্রেনার এর সেই ডায়ালগ ‘ফাইট কোনি ফাইট’ আজও অমলিন।
কমেডি ছবি করেছেন পরিচালক তরুণ মজুমদার ‘ধন্যি মেয়ে’ সিনেমায়। সত্তরের দশকে এই ছবির গান সুপারহিট হয়েছিল। গ্রামীণ বাংলার ফুটবল উন্মাদনা ক্লাসিক পরিবেশন বাংলার মানুষের কাছে।
বর্তমান সময়ে এই ধরণের ছায়াছবি হচ্ছে, হবেও। তবে পুরোনো বাংলা সিনেমার ফ্লেবার আলাদা। যদিও নতুন প্রজন্ম হয়তো সেই ফ্লেবার পছন্দ না-ও করতে পারে। কিন্তু যাঁরা পুরোনো দিনের বাংলার নগরবাসী তাদের অদ্ভুত আনন্দ হয় এই ছবি দেখলে। কারণ এই ধরণের চলচ্চিত্রে নিছক খেলা দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক লড়াই এবং মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির আলাদা স্বাদ ছবির অন্যতম ইউ এস পি।