২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
রাজ্য ব্রেকিং

রাজ্যের উত্তরে ঝটিকা সফরে অমিত শাহ

রাজ্যের উত্তরে ঝটিকা সফরে অমিত শাহ

তিন দিনের ঠাসা কর্মসূচি নিয়ে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতে চেন্নাই থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সোজা সুকনায় ওঠেন তিনি। শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় দৌড়ঝাঁপ — সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর ফ্রন্টিয়ার সদর দফতরে প্রকল্পের শিলান্যাস থেকে কাওয়াখালিতে নতুন ফৌজদারি আইনের প্রদর্শনী, দিনভর একের পর এক কর্মসূচি। সব মিলিয়ে এক মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার বঙ্গ সফরে এলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসএসবি সদর দফতরে শিলান্যাস, জওয়ানদের সঙ্গে ‘বড়া খানা’

শুক্রবার বেলা ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ শিলিগুড়িতে এসএসবি-র ফ্রন্টিয়ার সদর দফতরে পৌঁছন অমিত শাহ। সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন তিনি। এর পর জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী ‘বড়া খানা’-য় যোগ দেন।

শিলিগুড়ির ভৌগোলিক অবস্থানই এই সফরের সবচেয়ে বড় প্রেক্ষাপট। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ — তিন দেশের সীমান্ত ঘেঁষা এই এলাকা দিয়েই গিয়েছে সরু শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেন্‌স নেক’ নামে পরিচিত। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের একমাত্র স্থলসংযোগ এই করিডরই। ফলে এখানকার সীমান্ত পরিকাঠামো ও বাহিনীগুলির সমন্বয় কেন্দ্রের কাছে বরাবরই অগ্রাধিকারের বিষয়।

কাওয়াখালিতে নতুন ফৌজদারি আইনের প্রদর্শনী

দুপুর আড়াইটে নাগাদ শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে পৌঁছন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে দেশের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন — ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম — নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এই তিনটি আইন কার্যকর হয়েছে। ‘পাঁচ স্তম্ভ: বদলে যাওয়া বিচারব্যবস্থা’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী চলবে ২৬ অগস্ট পর্যন্ত। প্রদর্শনী দেখার পর একটি জনসভাতেও বক্তব্য রাখার কথা ছিল তাঁর।

বিকেলে শিলিগুড়ির একটি হোটেলে একটি হেল্পলাইন সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠক করার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সন্ধ্যায় সুকনায় ফিরে আরও দু’টি বৈঠকে বসার কথা, যার একটি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে।

এক নজরে সফরসূচি

  • ২০ অগস্ট, রাত: চেন্নাই থেকে বাগডোগরায় অবতরণ, সুকনায় রাত্রিবাস
  • ২১ অগস্ট, ১১টা ১৫: এসএসবি ফ্রন্টিয়ার সদর দফতর — শিলান্যাস ও ‘বড়া খানা’
  • ২১ অগস্ট, ২টো ৩০: কাওয়াখালি ময়দান — নতুন ফৌজদারি আইনের প্রদর্শনী ও সভা
  • ২১ অগস্ট, বিকেল-সন্ধ্যা: পর্যালোচনা বৈঠক, সুকনায় সীমান্ত নিরাপত্তা বৈঠক
  • ২২ অগস্ট: উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, তার পর বাগডোগরা থেকে দিল্লি রওনা

শনিবার পাহাড়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক

সফরের সবচেয়ে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পর্বটি শনিবার। ওই দিন একটি উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে বসার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, যেখানে বিএসএফ, এসএসবি, গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে বলে খবর।

এর পাশাপাশি দার্জিলিং পাহাড়ের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে গোর্খা সমস্যার ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা। বৈঠকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং ও সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির উপস্থিত থাকার কথা।

বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে একটি কারণে। ভোটের প্রচারে এসে গত এপ্রিলে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের সভায় অমিত শাহ বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে রাজ্য ভাগ না করেই সাংবিধানিক পথে গোর্খা সমস্যার সমাধান করবে বিজেপি। সরকার গঠনের ছ’মাসের মধ্যে এই সমস্যার নিষ্পত্তির কথাও প্রচারে উঠে এসেছিল। মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই পাহাড় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বড় বৈঠক। ফলে শনিবারের আলোচনা থেকে কী বার্তা আসে, সে দিকেই তাকিয়ে পাহাড়।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া সফরসূচি ও তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। কর্মসূচির সময় ও ক্রম শেষ মুহূর্তে বদলাতে পারে। নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।

#অমিতশাহ#উত্তরবঙ্গ#শিলিগুড়ি#এসএসবি#চিকেন্‌সনেক#দার্জিলিং#গোর্খাসমস্যা#পশ্চিমবঙ্গ

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp