১৪ আগস্ট, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
জাতীয় ব্রেকিং

স্বাধীন, কিন্তু ইতিহাসে আজও উপেক্ষিত

স্বাধীন, কিন্তু ইতিহাসে আজও উপেক্ষিত

হৈমন্তী রায় ঠাকুর : ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে প্রথম সারির স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম আমরা স্কুল সিলেবাসে পাই। যেমন, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইত্যাদি। নিশ্চয়ই ওঁদের স্মরণ করতেই হবে। কিন্তু বহু বীর সংগ্রামী আছেন যাঁদের নাম বই এর পাতায় জায়গা করে নিতে পারেনি।

  • ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নেতাদের মুখে এখনও সেই সব নাম শোনা যায় যাদের উল্লেখ লেখার শুরুতে আছে। বাঁদের নাম আছে বই এর পাতায় তাঁদের অসম্মান নয় কিন্তু অগণিত দেশপ্রেমিক আছেন যাঁদের রক্তে ভিজে স্বাধীনতার মাটি আরো বেশি পবিত্র হয়েছে তাঁদের নাম বর্তমান সমাজ বা প্রজন্ম জানেনা। জিজ্ঞেস করুন ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম সংগঠিত মহিলা বিদ্রোহ কোথায় হয়, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ প্রথম কোথায় হয়েছিল, টেঙ্গাধারি তেহেসিলদার কে, অসমের নবীনচন্দ্র বরদলই, তরুণরাম ফুকন কেউ চেনেইনা। এছাকনকলতা মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে জাতীয় পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি। আজ সেই পতাকা কোথাও কোথাও পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে রাজনৈতিক আবহ তৈরি করার জন্য।
  • দুর্গা দেবী ভোহরা: এই অগ্নিকন্যা বিপ্লবী ভগৎ সিংকে লাহোর থেকে ছদ্মবেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন।রানী গাইদিনলিউ: ১৩ বছরের কিশোরী মণিপুরে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নাগাদের বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। ১৪ বছর কারাবাস হয়।
  • সীতারাম রাজু: রম্পা বিদ্রোহের মহানায়ক তিনি। আদিবাসী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
  • কর্তার সিং সরাভা: ১৯ বছর বয়সে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসি হয়।
  • বাজি রাউত: ভারতের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ। ব্রিটিশ সেনাদের নদী পারাপার এ সম্মত না হওয়ায় নৌকাচালক বীর বিপ্লবী কে হত্যা করা হয়।

বেগম হযরত মহল যাঁকে স্বাধীনতা যুদ্ধের আত্মা বলা হয় তিনি ছিলেন হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতিভূ।

সেনাপতি বাপাট, পট্টি শ্রীরামুলু, তারা রানী শ্রীবাস্তব এঁদের নাম ভারতের মানুষ জানেনা।

স্বাধীনতা মানে দুপুরে জমিয়ে খাওয়া আর রাতের অন্ধকারে মাদক সেবন করে ছুটি কাটানো। অবশ্য সাত সকালে পাড়ার নেতা বাজারে যাওয়ার আগে নিজের অঞ্চলে কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ সঙ্গী নিয়ে ভারতের পতাকা লোহার রড বা বাঁশের মধ্যে দড়ি বেঁধে কয়েকটা ফুল ছিটিয়ে "বন্দে মাতরম" কয়েকবার গায়ের জোরে চিৎকার সহ দেশভক্তি দেখিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নির্দিষ্ট কোনো দল নয়, সব দলের এক চিত্র। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কার্যালয় দফতরে রাতে দলীয় পিকনিক স্বাধীনতা দিবসে হয়ে থাকে। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে যা ছিল আজও তাই। রঙ বদল হলেও চরিত্র বদল হয়নি।

আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কি সত্যি স্বাধীন? বিপ্লবীদের নামই তো জানিনা। ইতিহাস পড়িনা। ঝান্ডা নিয়ে লেকচার দিয়ে বাজিমাত। সব ঝান্ডাবাজ সাধারণতঃ ধান্দাবাজ। দুই একজন প্রবীণ আছেন যারা স্বাধীনতার মর্যাদা দেন ও মনে মনে স্মরণ করেন বীর বিপ্লবীদের চরণে অর্ঘ্য প্রদান করে। সেই সংখ্যা বিলুপ্তির পথে।

বরুয়া:ড়া,


শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp