শহরের নামী রেস্তোরাঁর রান্নাঘর থেকে পাড়ার কাঁচা বাজার — খাদ্যে ভেজাল ও পচা খাবারের কারবার রুখতে টানা অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও কলকাতা পুরসভার যৌথ অভিযানে গত কয়েক দিনে একের পর এক জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে পচা মাছ-মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার, ছত্রাক ধরা মিষ্টি। সোমবার অভিযান পৌঁছল গড়িয়াহাট বাজারে।
দু’দিনেই ১,৭৩০টি জায়গায় নজরদারি
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেব বলছে, অভিযানের প্রথম দু’দিনেই ১,৭৩০টি খাদ্য কেন্দ্রে নজরদারি চালানো হয়েছে — প্রথম দিন ৯০৬টি, দ্বিতীয় দিন ৮২৪টি। তার মধ্যে ১,৫২৫টি জায়গাতেই কোনও না কোনও অনিয়ম ধরা পড়েছে।
ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে দ্রুত। ১১টি দোকানে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়, ৫টির লাইসেন্স বাতিল হয়, সিল করা হয় ১৩টি দোকান। আরও ১৭টির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলছে।
দু’দিনের অভিযান, এক নজরে
- পরিদর্শন: ১,৭৩০টি খাদ্য কেন্দ্র (৯০৬ + ৮২৪)
- অনিয়ম মিলেছে: ১,৫২৫টি জায়গায়
- বিক্রি বন্ধ: ১১টি দোকানে
- লাইসেন্স বাতিল: ৫টি
- সিল: ১৩টি দোকান
- শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলছে: ১৭টির বিরুদ্ধে
জেলাভিত্তিক ছবি
জেলাঅনিয়মদক্ষিণ ২৪ পরগনা২১৫ (ডায়মন্ড হারবারেই ১৫৩)পূর্ব বর্ধমান১২৯উত্তর ২৪ পরগনা১২৮কলকাতা৯৬কোচবিহার৮৩
পার্ক স্ট্রিট থেকে ডেকার্স লেন
অভিযানে বাদ যায়নি শহরের চেনা ঠিকানাগুলিও। ৪ সেপ্টেম্বর পার্ক স্ট্রিটের দু’টি নামী রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে কেজি কেজি পচা মাছ-মাংস বাজেয়াপ্ত করেন পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকেরা। দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেকের একাধিক বড় শপিং মলের ফুড কোর্টেও পরিদর্শন হয়েছে।
অফিসপাড়ার ভিড়ে ঠাসা ডেকার্স লেনে অভিযানে মাখা সন্দেশে ছত্রাক মেলার পর গামলা ভর্তি মিষ্টি ফেলে দিতে হয়। সোমবার গড়িয়াহাট বাজারে গিয়ে আধিকারিকেরা লেবেল-হীন প্রায় ১৫ কিলোগ্রাম হিমায়িত মুরগি ও পাঁঠার মাংস বাজেয়াপ্ত করেন। প্যাকেটে মেয়াদ বা সংরক্ষণ সংক্রান্ত কোনও তথ্য ছিল না। মাংসে ফিনাইল ঢেলে তা নষ্ট করে পুরসভার গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য।
কড়া বার্তা স্বাস্থ্য দপ্তরের
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, খাবারে ক্ষতিকর উপাদান মেশানোর একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেখানে অনিয়ম মিলেছে, সেখানে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা মানা হচ্ছে কি না, নিয়মিত দেখা হবে বলেও দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এত দিন অভিযানের কেন্দ্রে ছিল রেস্তোরাঁ, হোটেল ও খাবারের দোকান। এ বার তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কাঁচা মাছ-মাংসের বাজার এবং পাইকারি বাজারেও।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন প্রশাসনিক সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়া মানেই আইনি ভাবে দোষ প্রমাণিত হওয়া নয়; নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।
#খাদ্যেভেজাল#খাদ্যসুরক্ষা#কলকাতাপুরসভা#পার্কস্ট্রিট#গড়িয়াহাট#ডেকার্সলেন#কলকাতা