২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
রাজ্য ব্রেকিং

যাদবপুরে দশ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’, গাইলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও

যাদবপুরে দশ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’, গাইলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও

যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড চত্বর শুক্রবার বিকেলে ভরে উঠল ‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে। রাখি পূর্ণিমার দিন সেখানে আয়োজিত হয় ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ কর্মসূচি। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই — মঞ্চে দাঁড়িয়ে গোটা গানটি গাইলেন তিনিও। কর্মসূচির আয়োজক ছিল যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি।

বন্ধ ছিল রাস্তা, বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট

বিপুল জমায়েতের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই নেওয়া হয়েছিল ট্রাফিক ব্যবস্থা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডের একাংশে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গেটও।

আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে প্রায় দশ হাজার মানুষ অংশ নেন। বিজেপি ও এবিভিপির কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষও যোগ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। জমায়েতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

মঞ্চ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

“যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বন্দে মাতরম গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না এখানে। কিন্তু আমরা যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই।”
— শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী

ক্যাম্পাসে ‘আজাদি’ স্লোগান ওঠা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ এবং মাওবাদী নেতার নামে স্লোগান লেখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “হয় ওরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝামাঝি কিছু হবে না।” আপসের দিন শেষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাম আমল ও তৃণমূল জমানা — দুই সময়কেই কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বাম জমানায় ক্যাম্পাসে ‘দেশবিরোধী’ মানসিকতা তৈরি হয়েছিল এবং পরে ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখে তৃণমূল তার সঙ্গে আপস করেছে।

এক নজরে

  • কোথায়: যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোড
  • কখন: ২৮ অগস্ট, শুক্রবার বিকেল (রাখি পূর্ণিমা)
  • আয়োজক: যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি
  • জমায়েত: আয়োজকদের দাবি প্রায় ১০ হাজার
  • উপস্থিত: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
  • ব্যবস্থা: দুপুর ১টা-সন্ধ্যা ৬টা যান চলাচল বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি গেট বন্ধ

প্রেক্ষাপটে সংঘর্ষের রেশ

কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে রয়েছে চলতি মাসেরই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। ১৯-২০ অগস্ট রাতে ফেটসুর জেনারেল বডি বৈঠক ঘিরে বাম ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তাল হয়েছিল ক্যাম্পাস। দু’পক্ষই যাদবপুর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করে, তদন্তে গঠিত হয় বিশেষ তদন্তকারী দল। তার সপ্তাহখানেক পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় এই কর্মসূচি রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস, বাম ছাত্র সংগঠন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এই কর্মসূচি বা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। জমায়েতের সংখ্যা আয়োজকদের দাবি, স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত মন্তব্য উদ্ধৃতি ও অ্যাট্রিবিউশন-সহ দেওয়া হয়েছে; এগুলি বক্তার নিজস্ব বক্তব্য, প্রতিবেদকের নয়। নতুন তথ্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া মাত্র প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।

#যাদবপুর#বন্দেমাতরম#শুভেন্দুঅধিকারী#যাদবপুরবিশ্ববিদ্যালয়#৮বি#রাখিপূর্ণিমা#পশ্চিমবঙ্গ

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp