ঠাকুর দেখতে আসছেন? মদ খেয়ে এলে ভবানীপুরের এই মণ্ডপে ঢোকা হবে না। দক্ষিণ কলকাতার চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি এ বছর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় কোনও দর্শনার্থীকে মণ্ডপে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আর সিদ্ধান্তটি যাতে শুধু কাগজে না থেকে যায়, তার জন্য প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
নিয়ম কী, কার্যকর হবে কীভাবে
কমিটির কার্যকরী সভাপতি গোরা রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, তৃতীয়া থেকে দ্বাদশী — দশ দিনই এই নিয়ম চালু থাকবে। মণ্ডপের প্রবেশপথে বসানো হবে ব্রেথ অ্যানালাইজার। যাঁদের আচরণ দেখে সন্দেহ হবে, তাঁদের পরীক্ষা করা হবে; মদ্যপানের প্রমাণ মিললে প্রবেশপথেই আটকে দেওয়া হবে।
‘‘তৃতীয়া থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত মদ্যপ অবস্থায় কাউকে মণ্ডপে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’
— গোরা রায়চৌধুরী, কার্যকরী সভাপতি, চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব
নজরদারির জন্য তৈরি রাখা হচ্ছে ৩০ জনের একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকরা। কলকাতা পুলিশের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, পুজোর ভিড়ে মদ্যপদের আচরণে অনেক সময়ই অস্বস্তিতে পড়েন সাধারণ দর্শনার্থী, বিশেষ করে মহিলারা। মণ্ডপের পরিবেশ ও নিরাপত্তা — দুই-ই রক্ষা করাই লক্ষ্য।
সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে সরকারি ঘোষণার প্রভাবও। গত ৭ সেপ্টেম্বর মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, মহাষ্টমীর ২৪ ঘণ্টা রাজ্যের কোথাও মদ বিক্রি করা যাবে না। মদের দোকান, বার, পাব, হোটেল-রেস্তোরাঁ — সব ক্ষেত্রেই ওই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। চক্রবেড়িয়ার উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকার এক দিনের জন্য যা করছে, তাঁরা নিজেদের মণ্ডপে গোটা পুজো জুড়েই সেই সুরক্ষা দিতে চান।
এক নজরে
- কোথায়: চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব, ভবানীপুর, দক্ষিণ কলকাতা
- নিয়ম: মদ্যপ অবস্থায় মণ্ডপে প্রবেশ নিষিদ্ধ
- মেয়াদ: তৃতীয়া থেকে দ্বাদশী
- ব্যবস্থা: প্রবেশপথে ব্রেথ অ্যানালাইজার, ৩০ জনের নিরাপত্তা দল, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবক
- পুলিশ: কলকাতা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে
- এবারের থিম: পদ্মদিঘির ঘাট
- সরকারি ড্রাই ডে: মহাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর — ২৪ ঘণ্টা মদ বিক্রি বন্ধ
প্রশ্নও উঠছে
সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও উঠছে। পুজো কমিটি কোনও সরকারি বা আইনরক্ষাকারী সংস্থা নয় — ফলে কোনও দর্শনার্থীকে ব্রেথ অ্যানালাইজারে ফুঁ দিতে বাধ্য করা যায় কি না, কেউ পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করলে কী হবে, আর গভীর রাতের ভিড়ে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ‘সন্দেহজনক আচরণ’ কে ঠিক করবেন — এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্যোক্তাদের তরফে বলা হয়েছে, জোরজবরদস্তি নয়, বোঝানোর পথেই এগোতে চান তাঁরা।
কবে কোন তিথি
এ বছর মহালয়া ১০ অক্টোবর, শনিবার। ষষ্ঠী ১৭ অক্টোবর, সপ্তমী ১৮, মহাষ্টমী ১৯, নবমী ২০ এবং বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর, বুধবার। সেই হিসেবে চক্রবেড়িয়ার নতুন নিয়ম কার্যকর হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন প্রকাশিত সংবাদ ও পুজো কমিটির তরফে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। নিয়মের চূড়ান্ত রূপ ও প্রয়োগ পদ্ধতি পুজোর সময় বদলাতে পারে।
ট্যাগ: #চক্রবেড়িয়াসর্বজনীন #দুর্গাপুজো২০২৬ #ব্রেথঅ্যানালাইজার #ভবানীপুর #কলকাতাপুজো #ড্রাইডে #মণ্ডপনিরাপত্তা #প্রথমসন্দেশ