নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর মানুষ স্বস্তিতে ছিল। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে নানান জায়গা থেকে দুর্নীতির খবর জানতে পারছে রাজ্যবাসী। মাত্র তিন মাস কেটেছিল। তার মধ্যেই কলকাতা, সল্টলেক, দুই ২৪ পরগনা, বর্ধমান, বীরভূম, উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় চলছে 'কাটমানি' 'তোলাবাজি' এর মত অভিযোগ। এর ফলে তীব্র গণক্ষোভ তৈরী হয়েছে। অভিযোগে সাধারণ মানুষ বলছেন, জামানা বদল হলেও তোলাবাজি সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি। সূত্রের খবর অনুযায়ী বেহালা সরশুনার ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বিটু সরকারের বিরুদ্ধে দশ হাজার টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মল্লিকপুরে এক প্রোমোটার অভিযোগ করেছেন তার কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা তোলা চাওয়া হয়েছে এবং দিতে অস্বীকার করায় বিজেপি নেতা দিলীপ মন্ডল প্রোমোটারের বাড়ি, অফিস ভাঙচুর চালিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের বি এল আর ও অফিসে কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা দাবি বিজেপি নেতাদের। বিজেপির নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বালি বোঝাই ট্রাক আটকে জোর করে টাকা আদায়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বিজেপি নেতা রাকেশ মাজি শোনা যাচ্ছে গ্রেফতার হয়েছে। ঘটনাটি পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়ার।
এছাড়া উত্তরবঙ্গের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ী এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়মিত তোলা আদায় এর অভিযোগ উঠে আসছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি জনগণের ক্ষোভ সামাল দিতে ২২ জনের বেশি বিজেপি কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের বিজেপি কর্মীদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তোলাবাজি বরদাস্ত হবে না বলে জানিয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মহাশয়।
কিন্তু নির্বাচনের আগে থেকেই তো বিজেপির নেতা-নেত্রীরা গলার শির ফুলিয়ে চিৎকার করে জনসমক্ষে বারবার বলেছিলেন কোনো দুর্নীতির লেশ থাকবে না রাজ্যে। তারা ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গ ‘সোনার বাংলা’ হবে। আদৌ কি সম্ভব? প্রশ্ন থাকছে জনগণের। জনগণ কি তাহলে ভুল করলো তাদের ক্ষমতায় এনে? যেভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, রান্নার গ্যাসের দাম থেকে শুরু করে সব কিছুই আকাশ ছোঁয়া এতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ দিন চালাবে কি করে। আমরা অপেক্ষায় থাক। সময় উত্তর দেবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের কিছুই করার নেই।