২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
রাজ্য ব্রেকিং

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

ফের অগ্নিকাণ্ডের বিভীষিকা শহরে। বুধবার ভোররাতে মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে (পূর্বতন ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) একটি চারতলা বাড়ির হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা ও একটি শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ছ’জন। মৃতদের অধিকাংশই বাংলাদেশের নাগরিক, যাঁরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে ওই হোটেলে উঠেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।

দমকল সূত্রে খবর, রাত দেড়টা থেকে দু’টোর মধ্যে আগুন লাগে। নিউ মার্কেট চত্বরের এই ব্যস্ত এলাকার ওই বাড়িটির প্রতিটি তলাতেই আলাদা আলাদা হোটেল ও গেস্ট হাউস চলত। ঘিঞ্জি করিডর, সরু সিঁড়ি আর বাইরের দিকে কোনও জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় আগুন লাগার পরই ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা বাড়ি। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আবাসিকদের অনেকেই বেরোনোর পথ খুঁজে পাননি।

উদ্ধারকাজ ও হতাহত

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে চার থেকে পাঁচটি ইঞ্জিনের কথা বলা হয়েছে। মই এবং বারান্দা দিয়ে একের পর এক আবাসিককে নামিয়ে আনেন দমকলকর্মীরা। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, ৬০ থেকে ৮০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও দমকলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, মৃত্যুর কারণ পুড়ে যাওয়া নয়, বরং ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ঘন ধোঁয়ার জন্য সিঁড়ি দিয়ে উপরের তলায় পৌঁছতেই দমকলকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। আগুনের উৎস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি তদন্তকারীরা, তবে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

ঘটনার খবর পেয়ে সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন —

“কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবরে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। এই বিপর্যয়ে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি রইল আমার সমবেদনা। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।”
— নরেন্দ্র মোদি, প্রধানমন্ত্রী (মূল ইংরেজি বার্তার বাংলা অনুবাদ)

ঘটনাস্থলে মন্ত্রীরা, প্রশ্নের মুখে হোটেলের বৈধতা

সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকল দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি। কৌশিক চৌধুরীর বক্তব্য, “১০০ জনের মৃত্যু হতে পারত, কিন্তু আমরা ৮০ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছি।” বাড়িটির নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ন্যূনতম বিধি মানা হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “একটি বাড়ির তিনটি তলায় ছোট ছোট ঘর নিয়ে দশটি হোটেল চলছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না।” মন্ত্রী তাপস রায় জানান, এমন সব জায়গা পরিদর্শনের জন্য দল গঠন করা হবে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই হোটেলের বৈধ ফায়ার লাইসেন্স ছিল না — যদিও এ বিষয়ে সরকারি ভাবে চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি।

এক নজরে

  • কোথায়: মির্জা গালিব স্ট্রিট (ফ্রি স্কুল স্ট্রিট), নিউ মার্কেট, মধ্য কলকাতা
  • কখন: ১৯ অগস্ট, ২০২৬ — ভোররাত
  • মৃত: ৯ (৬ পুরুষ, ২ মহিলা, ১ শিশু)
  • আহত: অন্তত ৬
  • উদ্ধার: আনুমানিক ৬০–৮০ জন
  • প্রাথমিক কারণ: সন্দেহ শর্ট সার্কিট (তদন্ত চলছে)
  • মৃত্যুর কারণ: ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ

তদন্তে সিট, শহরজুড়ে নিরাপত্তা অডিট

ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি রাজ্য সরকার মির্জা গালিব স্ট্রিট চত্বরের সমস্ত হোটেল ও লজের নিরাপত্তা অডিটের নির্দেশ দিয়েছে। দমকলমন্ত্রীর ঘোষণা, “এই বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিচ্ছি। একটিও দোষী প্রতিষ্ঠান ছাড় পাবে না।”

তবে প্রশ্ন উঠছে এই ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়েই। ২০২৫ সালের এপ্রিলে মেছুয়া বাজারের হোটেল ঋতুরাজে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যুর পরেও একই ধরনের অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একাধিক প্রতিবেদনের দাবি, সেই অডিট শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়নি, রিপোর্টও জমা পড়েনি।

দু’দিনে দুই বিপর্যয়

এই ঘটনার মাত্র দু’দিন আগেই বীরভূমের তারাপীঠে হোটেল বিদেশিনীতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান একাধিক পুণ্যার্থী। মৃতদের মধ্যে মেঘালয় ও আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দারা ছিলেন। সেখানেও প্রাথমিক অভিযোগ ছিল রিসেপশনের কাছে শর্ট সার্কিট এবং জরুরি নির্গমন পথের গ্রিল তালাবন্ধ থাকা। ওই ঘটনায় হোটেল মালিক-সহ দু’জনকে আটক করে পুলিশ। পরপর দু’টি ঘটনায় রাজ্যের বাজেট হোটেল ও লজগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ চলছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।কলকাতার অফিস পাড়া এলাকায় এই ধরণের বহু দীর্ঘ ব্যবসা দীর্ঘ বছর চলছে। বাম আমলেও আমরা এই ঘটনা দেখেছি। স্টিফেন কোর্ট 2010 এবং 2011 তে আমরি হসপিটালে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৯৯,জনের মৃত্যু। কাজেই নজর না দেওয়া নয়, নজর ঘুরিয়ে থাকা বলাই যায়। প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহল সব জেনেও একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে রাজ্যের মানুষ। প্রতিবার তদন্ত হয় কিন্তু তারপর সবটা চাপা পড়ে। বর্তমানে ১০০ দিনের সরকার আগামীতে কি করে সেটাই দেখার।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। হোটেলটির নাম, নিহতদের পরিচয়, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা এবং আগুনের চূড়ান্ত কারণ সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। মৃত ও উদ্ধারের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।

#কলকাতা#অগ্নিকাণ্ড#মির্জাগালিবস্ট্রিট#নিউমার্কেট#দমকল#পশ্চিমবঙ্গ#নরেন্দ্রমোদি#তারাপীঠ


শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp