২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
রাজ্য ব্রেকিং

আনন্দবাজার পত্রিকার দফতরে গেরুয়া রং, স্লোগান — নিন্দায় সাংবাদিক সংগঠনগুলি

আনন্দবাজার পত্রিকার দফতরে গেরুয়া রং, স্লোগান — নিন্দায় সাংবাদিক সংগঠনগুলি

মধ্য কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকার দফতরের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ দেখান একদল মানুষ। বিক্ষোভকারীরা ভবনের প্রবেশপথের থামে গেরুয়া রং লেপে দেন, গেরুয়া কাপড় জড়িয়ে দেন এবং স্লোগান দেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ থামটি ফের সাদা রং করিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যের সংবাদমাধ্যম মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

কী ঘটেছিল

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে গেরুয়া পোশাক পরা ২০ থেকে ৩০ জন ওই দফতরের সামনে জড়ো হন। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির পাশাপাশি ‘গেরুয়ার অপমান হিন্দুস্তান মেনে নেবে না’ — এই ধরনের স্লোগানও ওঠে। বেশ কিছু ক্ষণ ধরে বিক্ষোভ চলে।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিক্ষোভকারীরা একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তবে অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে ভিডিয়োয় দেখা গেলেও কাউকে গ্রেফতারের খবর মেলেনি।

বিতর্কের সূত্রপাত: একটি শিরোনাম

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে গত ২০ অগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯-২০ অগস্ট রাতের ছাত্র সংঘর্ষের খবরে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই শব্দচয়নে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে দাবি করে আপত্তি ওঠে একাধিক মহল থেকে।

২৮ অগস্ট বউবাজার থানায় সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয় বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন শাস্ত্রী মহারাজ নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে সম্পাদক ইশানী দত্ত রায় ও মুখ্য প্রতিবেদক সোমা মুখোপাধ্যায়-সহ সম্পাদকীয় বিভাগের একাধিক জনের নাম রয়েছে বলে খবর। এর আগে একটি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সংবাদপত্রটির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

এক নজরে

  • কবে: ১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুর
  • কোথায়: আনন্দবাজার পত্রিকার দফতর, মধ্য কলকাতা
  • কী হয়েছে: প্রবেশপথের থামে গেরুয়া রং, গেরুয়া কাপড়, স্লোগান
  • বিক্ষোভকারী: আনুমানিক ২০-৩০ জন
  • বিতর্কের সূত্র: ২০ অগস্টের ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শিরোনাম
  • এফআইআর: ২৮ অগস্ট, বউবাজার থানা
  • গ্রেফতার: কারও গ্রেফতারির খবর নেই

প্রতিক্রিয়া

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের ঘটনায় যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ইন্ডিয়ান উইমেন্স প্রেস কোর ও প্রেস অ্যাসোসিয়েশন।

“সাংবাদিকেরা সত্য উদ্‌ঘাটনের কাজ করেন, যা কারও কারও কাছে অপ্রিয় বা আপত্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু সেটাই আমাদের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।”
“সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রবণতা বাড়তে থাকা উদ্বেগজনক। এতে সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হয় এবং মুক্ত সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রতি অসম্মান প্রকাশ পায়।”
— যৌথ বিবৃতি, ইন্ডিয়ান উইমেন্স প্রেস কোর ও প্রেস অ্যাসোসিয়েশন

সংগঠন দুটির আরও বক্তব্য, নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহারের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন — তাঁদের নাম ও পদ জানতে চাওয়ার প্রবণতা সাংবাদিকদের নিশানা করার শামিল।

রাজনৈতিক স্তরেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ ঘটনাটিকে ‘পেশিশক্তির প্রদর্শন’ বলে নিন্দা করেন এবং এতে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃপক্ষের তরফে ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের খবর মেলেনি। রাজ্য প্রশাসনের তরফেও নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। বিক্ষোভকারীদের পরিচয়, এফআইআরের ধারা ও পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত হয়নি। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে অ্যাট্রিবিউশন-সহ দেওয়া হয়েছে; আদালতে বা তদন্তে কিছুই প্রমাণিত হয়নি। নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।

#আনন্দবাজারপত্রিকা#সংবাদমাধ্যমেরস্বাধীনতা#গেরুয়ারং#যাদবপুর#এফআইআর#প্রেসঅ্যাসোসিয়েশন#কলকাতা

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp