২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
রাজ্য ব্রেকিং

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬: ঘোষণার ৬০ বছরে দাঁড়িয়ে কোথায় বাংলা, কোথায় দেশ

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬: ঘোষণার ৬০ বছরে দাঁড়িয়ে কোথায় বাংলা, কোথায় দেশ

আজ ৮ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ইউনেস্কোর ঘোষিত এ বছরের ভাবনা — ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। দিনটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ৬০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বছরই। মূল অনুষ্ঠান হচ্ছে মেক্সিকোর চিয়াপাস প্রদেশে, যেখানে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর ধরে চলবে আলোচনা ও পুরস্কার প্রদান।


কেন ৮ সেপ্টেম্বর

দিনটির শিকড় ১৯৬৫ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত নিরক্ষরতা বিষয়ক বিশ্ব শিক্ষামন্ত্রী সম্মেলনে। তার পরের বছর, ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রথম পালিত হয় ১৯৬৭ সালে। সাক্ষরতা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজের স্বীকৃতিতে প্রতি বছর এই দিনেই ঘোষিত হয় ইউনেস্কোর সাক্ষরতা পুরস্কার — যার মধ্যে রয়েছে কনফুসিয়াস পুরস্কার ও কিং সেজং পুরস্কার।


বিশ্বের ছবি

ইউনেস্কোর হিসেব বলছে, বিশ্বজুড়ে এখনও প্রায় ৭৩ কোটি ৯০ লক্ষ কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রাথমিক সাক্ষরতার দক্ষতা থেকে বঞ্চিত। শুধু তাই নয় — প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৪ জনই ন্যূনতম পাঠদক্ষতার মাত্রা ছুঁতে পারছে না। অর্থাৎ স্কুলে ভর্তির সংখ্যা বাড়লেও শেখার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


এক নজরে

দিন: ৮ সেপ্টেম্বর, প্রতি বছর

২০২৬-এর ভাবনা: ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’

ঘোষণা: ইউনেস্কো, ১৯৬৬ — প্রথম পালন ১৯৬৭

মূল অনুষ্ঠান: চিয়াপাস, মেক্সিকো (৮-৯ সেপ্টেম্বর)

বিশ্বে বঞ্চিত: প্রায় ৭৩.৯ কোটি মানুষ

ভারতের অবস্থান

২০১১ সালের জনগণনার হিসেবে দেশে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সি নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা ছিল ২৫ কোটি ৭৬ লক্ষ। পরবর্তী সাক্ষরতা কর্মসূচিগুলির পরেও কোটি কোটি প্রাপ্তবয়স্ক এখনও নিরক্ষর বলে সরকারি নথিতেই স্বীকার করা হয়েছে।


এই ঘাটতি মেটাতেই চালু হয়েছে ‘উল্লাস — নব ভারত সাক্ষরতা কার্যক্রম’। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের লক্ষ্য ১৫ বছরের বেশি বয়সি নিরক্ষরদের পড়া, লেখা ও হিসেবের প্রাথমিক দক্ষতার পাশাপাশি জীবনদক্ষতা শেখানো। ২০২২-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ। ২০২৪ সালের জুনে লাদাখকে দেশের প্রথম ‘পূর্ণ কার্যকরী সাক্ষর’ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়।


বাংলার ছবি: এগিয়ে, তবু ফারাক বিরাট

সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে সাক্ষরতার হার ৮২.৬ শতাংশ — পুরুষদের ক্ষেত্রে ৮৫.৮, মহিলাদের ৭৯.৩ শতাংশ। জাতীয় গড়ের চেয়ে রাজ্য কিছুটা এগিয়ে। কিন্তু রাজ্যের ভিতরের ছবিটা সমান নয়।


২০১১ সালের জনগণনার জেলাভিত্তিক হিসেব দেখাচ্ছে, শীর্ষে থাকা পূর্ব মেদিনীপুর (৮৭.৬৬%) আর সবার নীচে থাকা উত্তর দিনাজপুরের (৬০.১৩%) মধ্যে ফারাক প্রায় ২৭ শতাংশ বিন্দু। মালদহ (৬২.৭১%) ও পুরুলিয়াও (৬৫.৩৮%) পিছিয়ে।


জেলা সাক্ষরতার হার (২০১১)

পূর্ব মেদিনীপুর ৮৭.৬৬%

কলকাতা ৮৭.১৪%

উত্তর ২৪ পরগনা ৮৪.৯৫%

পুরুলিয়া ৬৫.৩৮%

মালদহ ৬২.৭১%

উত্তর দিনাজপুর ৬০.১৩%

রাজ্যের সামগ্রিক হার বাড়লেও এই জেলাভিত্তিক ও লিঙ্গভিত্তিক ফারাকই এখন আসল প্রশ্ন। সাক্ষরতা দিবসে সেই ফাঁকটুকুর দিকেই নজর দেওয়ার কথা বলছেন শিক্ষাবিদেরা

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান ইউনেস্কো, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত নথি ও জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া। জেলাভিত্তিক হার ২০১১ সালের জনগণনার; রাজ্য ও দেশের সাম্প্রতিক হার নমুনা সমীক্ষাভিত্তিক, তাই দু’টি সংখ্যা সরাসরি তুলনীয় নয়।

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp