২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রথম সন্দেশ দেশ ও প্রবাসের রাজনৈতিক খবর বিশ্লেষণের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম
ব্রেকিং
প্রথম সন্দেশ
রাজ্য ব্রেকিং

আজ গণেশ চতুর্থী: কলকাতায় পুজোর শুভ সময়, তিথি ও বিসর্জনের দিনক্ষণ

আজ গণেশ চতুর্থী: কলকাতায় পুজোর শুভ সময়, তিথি ও বিসর্জনের দিনক্ষণ

সিদ্ধিদাতার আরাধনায় আজ মেতেছে গোটা দেশ। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হচ্ছে গণেশ চতুর্থী। ঘরে ঘরে গণপতির মূর্তি স্থাপন, মোদক আর লাড্ডুর নৈবেদ্য, আর পাড়ায় পাড়ায় ঢাক-ঢোলের শব্দ — মহারাষ্ট্র-গুজরাত তো বটেই, গত কয়েক বছরে কলকাতা ও শহরতলির ছবিটাও বদলে গিয়েছে অনেকটাই।

তিথি ও শুভ সময়

প্রচলিত পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী চতুর্থী তিথি শুরু হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে, শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে। গণেশ পুজোর ক্ষেত্রে মধ্যাহ্নকালকেই সবচেয়ে শুভ বলে ধরা হয়, কারণ শাস্ত্রমতে ওই সময়েই গণপতির জন্ম।

শহরমধ্যাহ্ন স্থাপনা মুহূর্তকলকাতাসকাল ১০টা ১৮ – দুপুর ১২টা ৪৬নয়াদিল্লিসকাল ১১টা ২ – দুপুর ১টা ৩১মুম্বইসকাল ১১টা ২০ – দুপুর ১টা ৪৮পুণেসকাল ১১টা ১৬ – দুপুর ১টা ৪৪

অর্থাৎ কলকাতার বাসিন্দাদের হাতে পুজোর জন্য প্রায় আড়াই ঘণ্টার একটি জানালা রয়েছে। এই সময়েই মূর্তি স্থাপন, প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও ষোড়শোপচার পুজো সেরে ফেলার পরামর্শ দেন পুরোহিতরা।

বিসর্জন কবে

দশ দিনের উৎসব শেষ হবে অনন্ত চতুর্দশীতে, শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর। চতুর্দশী তিথি থাকছে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর ১টা ৪৮ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৩৬ পর্যন্ত। তবে সবাই দশ দিন রাখেন না — পারিবারিক রীতি অনুযায়ী দেড় দিন, তিন দিন, পাঁচ দিন বা সাত দিনেও বিসর্জন হয়। সেই হিসেবে এ বছরের বিকল্প বিসর্জনের দিন ১৫, ১৬, ১৮ ও ২০ সেপ্টেম্বর।

এক নজরে

  • গণেশ চতুর্থী: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • তিথি: ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ – ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪
  • কলকাতায় মুহূর্ত: সকাল ১০টা ১৮ – দুপুর ১২টা ৪৬
  • বিসর্জন: অনন্ত চতুর্দশী, শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর
  • বিকল্প বিসর্জন: ১৫, ১৬, ১৮ ও ২০ সেপ্টেম্বর

পুজোর নিয়ম, সংক্ষেপে

স্নান সেরে পরিষ্কার আসনে গণেশমূর্তি স্থাপন করে প্রথমে সংকল্প, তারপর আবাহন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা। নৈবেদ্যে থাকে মোদক, লাড্ডু, দুর্বাঘাস, লাল জবা, সিঁদুর, ধূপ-দীপ ও নারকেল। দুর্বা অর্পণ গণপতির পুজোয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চতুর্থীর রাতে চাঁদ দেখা নিষিদ্ধ — এই রীতির পিছনে রয়েছে চন্দ্রদেবের প্রতি গণেশের অভিশাপের পৌরাণিক কাহিনি।

বাংলার মণ্ডপে এবার থিমের ভিড়

বাংলায় গণেশ পুজো এক সময় ছিল মূলত ব্যবসায়ী মহল ও অবাঙালি পরিবারের উৎসব। গত কয়েক বছরে ছবিটা বদলেছে — বারোয়ারি পুজোর সংখ্যা বেড়েছে, এসেছে দুর্গাপুজোর ধাঁচে থিম-ভাবনাও।

বাগুইআটির ভিআইপি রোডে এগজিকিউটিভ প্যালেস অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পুজো এবার সাজানো হয়েছে ‘পরিবর্তন’ ভাবনায়। শিল্পী মিন্টু পালের পরিকল্পনায় ১১ ফুটের গণেশমূর্তির পরনে সাদা কুর্তা ও গেরুয়া পাগড়ি। মণ্ডপে ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি থ্রি-ডি দেওয়ালে উদ্যোক্তারা ‘৪ মে-র আগে’ ও ‘৪ মে-র পরে’ বাংলার ছবি পাশাপাশি রেখেছেন। ১৩ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর, ছ’দিনের এই পুজোর উদ্বোধনে ছিলেন দিলীপ ঘোষ এবং বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ও জিতেন্দ্র কুমার তিওয়ারি।

পানিহাটিতে একটি গণেশ পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, রাজ্যে উৎসবের পরিসর বাড়াটাই সাংস্কৃতিক বদলের ইঙ্গিত।

‘‘বাংলা জুড়ে বদল চোখে পড়ছে… বাংলা ‘নিউ বেঙ্গল’ হতে চলেছে। এখানে সমৃদ্ধি আসছে।’’
— দিলীপ ঘোষ, পানিহাটিতে

মণ্ডপে রাজনৈতিক ভাবনার এই প্রবেশ নতুন নয় — দুর্গাপুজোতেও বহু বছর ধরেই সমসাময়িক বিষয় থিম হয়ে উঠেছে। তবে গণেশ পুজোর মঞ্চে সরাসরি সরকারি কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক উপস্থাপনা এ রাজ্যে তুলনায় নতুন।

এদিকে মুম্বইয়ের লালবাগচা রাজা থেকে জয়পুরের মোতি ডুঙরি মন্দির — দেশের নানা প্রান্তে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন ভক্তদের। কলকাতাতেও বড় বাজার, পোস্তা, বেহালা, সল্টলেক ও নিউ টাউনের একাধিক মণ্ডপে সকাল থেকে ভিড় জমতে শুরু করেছে।

দ্রষ্টব্য: তিথি ও মুহূর্তের সময় প্রচলিত পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী দেওয়া। আঞ্চলিক পঞ্জিকাভেদে সময়ের সামান্য পার্থক্য হতে পারে। পারিবারিক রীতি ও পুরোহিতের পরামর্শই চূড়ান্ত বলে গণ্য করবেন।

ট্যাগ: #গণেশচতুর্থী২০২৬ #গণেশপুজো #সিদ্ধিদাতাগণেশ #শুভমুহূর্ত #গণেশবিসর্জন #অনন্তচতুর্দশী #কলকাতা #প্রথমসন্দেশ

শেয়ার করুন: Facebook WhatsApp