অভয়া মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি। দেহ দ্রুত দাহ করানো ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে বৃহস্পতিবার ভোরে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল। ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে এনে খড়দহ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাঁকে।
তদন্তকারীদের দাবি, আরজি কর হাসপাতাল থেকে অভয়ার দেহ পানিহাটিতে আনা ও তড়িঘড়ি দাহ করানোর প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে আইনি ও সামাজিক রীতি এড়িয়ে দ্রুত দাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল প্রমাণ নষ্ট করতেই। নোটিস পাওয়ার পর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়নি; সোমনাথ দে-র বক্তব্য মেলেনি।
এক নজরে
- ধৃত: সোমনাথ দে, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, পানিহাটি পুরসভা
- কোথা থেকে, কবে: বেঙ্গালুরু, ৩ সেপ্টেম্বর ভোর
- অভিযোগ: দ্রুত দাহের ব্যবস্থা করে প্রমাণ লোপাট
- পরবর্তী ধাপ: ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ
- আগে ধৃত: প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, একই অভিযোগে
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই তৎপরতা
গত ৯ অগস্ট নির্যাতিতার মায়ের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ১৯৫২ সালের কমিশন আইনে পুনর্তদন্তের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দাহে অনিয়ম নিয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশও দেন তিনি। ওই এফআইআরে তিন জনের নাম ছিল — নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, দাহের সময় পরিবারকে নির্ধারিত খরচ বহন করতে দেওয়া হয়নি, নিকটাত্মীয়দের সইও নেওয়া হয়নি।
“আমি কমিটেড, আমি কমিটেড, আমি কমিটেড। বোনের বিচারের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।”
— শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী (৯ অগস্ট, ২০২৬)
ওই তালিকার প্রথম জন নির্মল ঘোষ আগেই ধরা পড়েছিলেন। এ বার ধরা পড়লেন দ্বিতীয় জন। জিজ্ঞাসাবাদে জানার চেষ্টা হবে, দাহের বন্দোবস্ত করতে কে বা কারা নির্দেশ দিয়েছিলেন।
দ্রষ্টব্য: সমস্ত অভিযোগ তদন্তাধীন, আদালতে কিছুই প্রমাণিত হয়নি। ধৃত ব্যক্তি আইনের চোখে ততক্ষণ নির্দোষ, যতক্ষণ না দোষ প্রমাণিত হয়। নির্যাতিতার প্রকৃত পরিচয় আইন অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়নি।
#অভয়া#আরজিকর#সোমনাথদে#পানিহাটি#খড়দহ#নির্মলঘোষ#পুনর্তদন্ত